এলপিজি-বিদ্যুতের দাম বাড়ায় চাপে রাজধানীর রেস্তোরাঁ খাত
ঢাকাঃ রাজধানী ঢাকার প্রায় ২০ হাজার হোটেল ও রেস্তোরাঁ এলপিজিনির্ভর রান্না ব্যবস্থার ওপর পরিচালিত হচ্ছে। গত তিন মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়ে ১,৩৫৬ টাকা থেকে ১,৯৪০ টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্যও প্রায় ১৬.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে রেস্তোরাঁ খাতের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।ব্যবসায়ীরা জানান, তীব্র প্রতিযোগিতা ও গ্রাহক হারানোর আশঙ্কায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান সরাসরি খাবারের দাম না বাড়িয়ে পরিবেশনের পরিমাণ কমানোর পথ বেছে নিয়েছে। অনেক রেস্তোরাঁয় ভাত, মাংস ও অন্যান্য পদ আগের তুলনায় কম পরিবেশন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাত, ডাল বা ঝোলের মতো সুবিধাগুলোও সীমিত করা হয়েছে।ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কিছু প্রতিষ্ঠান এলপিজির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার শুরু করেছে। কোথাও কোথাও কয়লা ও লাকড়ির মতো বিকল্প জ্বালানিও ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এসব বিকল্পের কার্যকারিতা, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবি, পাইপলাইন গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ঢাকার প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেল-রেস্তোরাঁ এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে জ্বালানি ব্যয় এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, আগে যেখানে গ্রস প্রফিট ১৮-২০ শতাংশ ছিল, এখন তা ১৫ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।শুধু বাণিজ্যিক রেস্তোরাঁ নয়, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিনেও এর প্রভাব পড়েছে। ব্যয় কমাতে খাবারের পরিমাণ ও বিভিন্ন সুবিধা সীমিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে অভিজাত এলাকার ক্যাফেগুলোও উৎপাদন ব্যয় ১০-১৫ শতাংশ বৃদ্ধির চাপ সামলাতে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে।বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মতে, এলপিজি, বিদ্যুৎ ও কাঁচামালের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ইতোমধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জ্বালানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ভ্যাট কাঠামো সহজীকরণ এবং বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে খাবারের দাম বৃদ্ধি, সেবার মান হ্রাস এবং আরও প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—উভয় পক্ষই ক্ষতির মুখে পড়বে।