
ঢাকাঃ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হওয়ার আভাসে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। ইরান ও ইসরায়েল উভয় পক্ষই তাদের সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের যে 'ওয়ার প্রিমিয়াম' বা যুদ্ধকালীন বাড়তি মূল্য ছিল, তা কমতে শুরু করেছে।আজ সোমবার (২২ জুন) এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড 'ব্রেন্ট ক্রুড'-এর দাম ব্যারেল প্রতি ৮৬ সেন্ট বা ১.০৭ শতাংশ কমে ৭৯.৭১ ডলারে নেমে এসেছে।অন্যদিকে, মার্কিন অপরিশোধিত তেল 'ডব্লিউটিআই' (WTI)-এর দাম সামান্য ৬ সেন্ট বা ০.০৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭৫.৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেলের অন্যতম মানদণ্ড 'মুরবান ক্রুড'-এর দাম ব্যারেল প্রতি ৩০ সেন্ট বা ০.৪০ শতাংশ কমে ৭৩.৬৩ ডলারে নেমেছে।বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডের লুসার্নে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ইরান ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলো। সোমবার ভোরে দুই দেশের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে পাল্টা-পাল্টি রকেট ও বিমান হামলার পর ইরানের সামরিক বাহিনীর যৌথ কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অভিযান আপাতত স্থগিত করছে।এই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরুর যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট 'স্ট্রেইট অব হরমুজ' বা হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে বিনিয়োগকারীদের মাঝে।উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই যুদ্ধবিরতি যদি স্থায়ী হয়, তবে আগামী দিনগুলোতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ থেকে ৭৫ ডলারের ঘরে নেমে আসতে পারে। তবে বাজার এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয় এবং বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
