বই পড়া উৎসবে শিক্ষার্থীদের ঢল
শ্রীমঙ্গল : ‘বই পড়ি, মন গড়ি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চলছে বই পড়া উৎসব।শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের আসক্তি থেকে বের করে বই পড়ার আনন্দে সম্পৃক্ত করা, পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং জ্ঞান ও মননশীলতার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসবের সমন্বয়ে এবং উত্তরণের পাঠ সহযোগিতায় আয়োজিত এ উৎসবে উপজেলার ৩৮টি মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।সোমবার (১৭ আগস্ট) বই পড়া প্রতিযোগিতার লিখিত পরীক্ষায় প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ১০ জনকে দ্বিতীয় ধাপের জন্য নির্বাচিত করা হবে। পরবর্তী ধাপে তাদের মধ্য থেকে সেরা ৩ জনকে চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত করা হবে।উৎসবে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতকোত্তর ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ ও ‘ঘ’—এই ৪টি বিভাগে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। নির্ধারিত বইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা গল্প, উপন্যাসসহ বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পরবর্তী ধাপে উন্নীত করা হবে।এছাড়া শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বই পড়ুয়া যে কোনো ব্যক্তির জন্য উন্মুক্ত বিভাগে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ বিভাগে অংশ নিতে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ ছিল।বই পড়া প্রতিযোগিতার জন্য বিভিন্ন শ্রেণি ও পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উপযোগী মোট ১৪টি বই নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য আব্দুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিনের ‘আবিষ্কারের নেশায়’ ও এ. পি. জে. আব্দুল কালামের ‘উইংস অব ফায়ার’; সপ্তম শ্রেণির জন্য শাহেদ আলীর ‘জিবরাইলের ডানা’ ও জুল ভার্নের ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেইজ’; অষ্টম শ্রেণির জন্য হুমায়ুন আজাদের ‘লাল নীল দীপাবলি বা বাংলা সাহিত্যের জীবনী’ ও জর্জ অরওয়েলের ‘অ্যানিমেল ফার্ম’ রয়েছে।নবম শ্রেণির জন্য মুহাম্মদ আব্দুল হাইয়ের ‘বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন’ ও কাজী নজরুল ইসলামের ‘মৃত্যুক্ষুধা’; দশম শ্রেণির জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রাশিয়ার চিঠি’ ও সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশে বিদেশে’ নির্বাচন করা হয়েছে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্য আহমদ ছফার ‘আরেক ফাল্গুন’ ও আনোয়ার পাশার ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ এবং ডিগ্রি (পাস)/অনার্স পর্যায়ের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আরণ্যক’ ও কাজী নজরুল ইসলামের ‘মৃত্যুক্ষুধা’সহ বিভিন্ন বই রাখা হয়েছে।বই পড়া উৎসব সফল করতে ইতিমধ্যে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান উপজেলার ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া সাংবাদিক, সুধীসমাজ ও বিভিন্ন অংশীজনকে নিয়ে কয়েক দফা মতবিনিময় সভা করেছেন।শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, “মোবাইল ফোনে বুঁদ হয়ে থাকা এই প্রজন্মকে বই পড়ার আনন্দে উজ্জীবিত করা এবং আগামীর প্রজন্মের মেধা ও মননশীলতার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেই উপজেলা প্রশাসন এ বই পড়া উৎসবের আয়োজন করেছে।”