ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা পরিহারের পরামর্শ দিলেন রাষ্ট্রদূত


ঢাকাঃ লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা পরিহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান এবং কোনো অবস্থাতেই তা ঝুঁকির মুখে ফেলা উচিত নয়।
সম্প্রতি লিবিয়ার মিসরাতা শহরে বসবাসরত প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলীর বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
দূতাবাস জানায়, অনুষ্ঠানে মিসরাতা শহরে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত তিন শতাধিক বাংলাদেশি প্রবাসী অংশগ্রহণ করেন।
সভায় রাষ্ট্রদূত বলেন, লিবিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা তাদের সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার জন্য সুনাম অর্জন করেছে। তিনি সকলকে অর্জিত সুনাম ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এ প্রেক্ষিতে তিনি স্থানীয় জনগণ ও নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রত্যেক প্রবাসী বাংলাদেশি নিজ নিজ অবস্থান থেকে বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি এবং অনানুষ্ঠানিক রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা পালন করেন।
তিনি প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্থানীয় কোনো বিষয়ে আবেগতাড়িত হয়ে মন্তব্য বা কোনো তথ্য শেয়ার করে যেন কেউ অপ্রয়োজনীয় জটিলতা বা বিপদের সম্মুখীন না হন।
তিনি বলেন, স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস লিবিয়া সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
একই সঙ্গে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
তিনি নিয়মিত পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বেশি অবদান রাখার জন্য প্রবাসীদের উৎসাহিত করেন।
রাষ্ট্রদূত প্রবাসীদের মতামত মনোযোগসহকারে শোনেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন, সমস্যা ও পরামর্শের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, লিবিয়ায় অবস্থানরত সকল বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য কনস্যুলার ও কল্যাণমূলক সেবা নিশ্চিত করতে এবং এসব সেবা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দূতাবাস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখছে।
সভায় অংশগ্রহণকারী প্রবাসীরা দূতাবাসের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং প্রবাসীদের কল্যাণে দূতাবাসের চলমান কার্যক্রমের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।










