অযত্নে ২৫ ঐতিহাসিক স্থাপনা
রংপুরঃ বিভাগজুড়ে ৬০টিরও বেশি ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে, যা দেখতে প্রতিবছর ২৫ লাখেরও বেশি দর্শনার্থী ভিড় জমান। তবে পীরগাছার দেবী চৌধুরানীর রাজবাড়িসহ অন্তত ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা নানা জটিলতার কারণে এখনো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় আসেনি।সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত করা গেলে পর্যটক ও দর্শনার্থীর সংখ্যা অন্তত দ্বিগুণ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে একদিকে যেমন ঐতিহ্য সংরক্ষণ আরও জোরদার হবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুরে তাজহাট জমিদার বাড়ি, লালবিবি মাজার, বেগম রোকেয়ার বসতভিটা, মিঠাপুকুর মসজিদ, দিনাজপুর জমিদার বাড়ি, কান্তজির মন্দির, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বিরাট রাজার ঢিবি, পঞ্চগড়ের খালপাড়া প্রাচীন টিবি, মর্কদম গড়, রাজা টংকনাথ চৌধুরীর বাড়ি, লালমনিরহাটের নিদারিয়া মসজিদ, নীলফামারী বড় মসজিদ, কুড়িগ্রাম সদর রকাটাদুয়ার ইত্যাদি নিদর্শন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আওতায় রয়েছে।আওতার বাইরে রয়েছে পীরগাছার দেবী চৌধুরানীর রাজবাড়ি, রাজা শিবচন্দ্রের রাজবাড়ি, লালমনিরহাটের রেলভবন, সিন্দুুরমতি, রাজা রায় দিঘি, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক মসজিদসহ কমপক্ষে ২৫টি স্থাপনা।প্রতত্নত্ত্ব আইন অনুযায়ী, কোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা শতবর্ষী হলেই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে যায়। তবে অধিদপ্তরের আওতার বাইরে থাকা স্থাপনাগুলোর বয়স ১০০ পার হলেও নানান জটিলতায় আইনের বাস্তবায়ন হচ্ছে না। অনেক ঐতিহাসিক নির্দশন দেবোত্তর সম্পত্তি, মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ অধিদপ্তর অধিগ্রহণ করতে পারছে না। দর্শনার্থীরাও সেসব স্থানে যেতে পারেন না।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ অধিদপ্তরের আওতায় নিয়ে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় করতে পারলে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।প্রত্নতত্ত্ব¡ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের আঞ্চলিক পরিচালক এ কে এম সাইফুর রহমান বলেন, বিভাগজুড়ে ৬১টি প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ রয়েছে। আরও বেশকিছু ঐতিহাসিক নির্দশন প্রত্নতত্ত্ব সম্পদের তালিকভুক্ত করা হয়েছে। খুব শিগগির কমপক্ষে ১০টি স্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় আসবে। দেবী চৌধুরানীর রাজবাড়ি ও রাজ শিবচন্দ্রের রাজবাড়ি প্রত্নতত্ত্ব¡ অধিদপ্তরের আওতায় আসার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।