বর্ষার রূপে মোহময় সৈকত, পর্যটকের ঢল


কক্সবাজার : কখনো বৃষ্টি আবার কখনো মেঘরৌদ্রের লুকোচুরি। শ্রাবণের মেঘ রৌদ্রময় এ খেলায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে উচ্ছ্বাসে মেতেছেন হাজারো পর্যটক।
শুক্র ও শনিবার (১৪-১৫ আগস্ট) ছুটির দিনে সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে সকাল থেকেই হাজারো পর্যটকের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো সৈকত। বিশেষ করে যাঁরা বর্ষায় সমুদ্র উপভোগ করতে ভালোবাসেন তাঁরাই এখন কক্সবাজারে ভিড় করছেন।
সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী ও সি-গাল পয়েন্টে দেখা যায় পরিবারপরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে সমুদ্রের ঢেউ উপভোগে মেতে উঠেছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। কেউ সাগরের পানিতে গোসল করছেন, কেউ বালুকাবেলায় হাঁটছেন, আবার অনেকে স্মৃতিবিজড়িত মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
শুধু সমুদ্রসৈকত নয়, হিমছড়ি, ইনানী, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনসহ জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানেও পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। পরিবারপরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতিতে চাঙা হয়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যটননির্ভর অর্থনীতি। হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, পর্যটন যান, ফটোগ্রাফার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। দীর্ঘ বিরতির পর ব্যবসা ভালো হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আনিস মোহাম্মদের সঙ্গে সুগন্ধা পয়েন্ট সৈকতে কথা হয়। তিনি পরিবার নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছেন। আমান বলেন, বর্ষায় সৈকতে ঘুরতে ভালোই লাগে। হোটেলভাড়াও কম। সব মিলিয়ে এবারের ভ্রমণ ভালো কাটছে।
দিনাজপুর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন চাকরিজীবী কামরুল আহমেদ। কয়েকদিন কক্সবাজারে থাকার পরিকল্পনা নিয়ে আসা এই পর্যটক জানান, কক্সবাজারে পাহাড়-সমুদ্র একসঙ্গে দেখার সুযোগ রয়েছে।
লাবণী পয়েন্টে দায়িত্বরত লাইফ গার্ড সদস্য মোহাম্মদ শুক্কুর জানান, এ সময়ে সাগর বেশ উত্তাল। এর মধ্যে সৈকতের কয়েকটি স্থানে রিপ কারেন্ট (গুপ্ত খাল) তৈরি হয়েছে। ফলে পর্যটকদের সতর্কতার সঙ্গে গোসলে নামতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পর্যটকদের সেবা নিশ্চিতে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আওলাদ হোসেন।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও ছুটির কারণে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে পর্যটন খাত আরও ঘুরে দাঁড়াবে বলে তাঁরা আশা করছেন।










