বিদ্যুৎ সংকটে ধুঁকছে ‘সাগরকন্যা’র পর্যটন


পটুয়াখালী : সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি 'সাগরকন্যা' খ্যাত কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। প্রকৃতি ও সমুদ্রের টানে প্রতিনিয়ত হাজারো পর্যটক ভিড় করেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত ও পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায়।
পর্যটকদের নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করতে নানা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ থাকলেও বিদ্যুৎ সরবরাহে নেই কোনো বিশেষ বরাদ্দ বা পৃথক ব্যবস্থা।
জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পর্যটক, হোটেল-রিসোর্ট মালিক, রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘন্টাপর্যন্ত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রায় ২ শতাধিক আবাসিক হোটেল-মোটেল, শতাধিক রেস্তোরাঁ এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে পর্যটকদের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে জেনারেটরের অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও কুয়াকাটার জন্য আলাদা কোনো বিদ্যুৎ বরাদ্দ বা বিশেষ ব্যবস্থাপনা নেই। ফলে পর্যটকের চাপ বাড়লেই সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় কুয়াকাটার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অনেক পর্যটক অসন্তোষ প্রকাশ করছেন, এমনকি বিদ্যুৎ সংকটের কারণে হোটেল বুকিং বাতিলের ঘটনাও ঘটছে।
হোটেল খান প্যালেসের পরিচালক সাকুর বলেন, বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে হয় এতে জ্বালানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। পর্যটকরাও বিরক্ত হচ্ছেন, আর আমাদের লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।
রাখাইন মার্কেটের রুচিতা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পরিচালক আবু বকর বলেন, শুধু দিনের বেলায় নয়, রাতেও নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে। এভাবে একটি পর্যটন এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন।
ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় ঘুরতে এসেছি। কিন্তু বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বস্তিতে থাকা যাচ্ছে না। বিশেষ করে গরমের মধ্যে হোটেলে বিদ্যুৎ না থাকায় খুবই কষ্ট হচ্ছে। পর্যটন এলাকায় এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়।
কুয়াকাটা বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের ডিজিএম বলেন, পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে কুয়াকাটার জন্য অতিরিক্ত কোনো বিদ্যুৎ বরাদ্দ বা বিশেষ বাজেট নেই। তাই বিদ্যমান সরবরাহ দিয়েই লোড ম্যানেজমেন্ট করতে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত জানানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত বরাদ্দের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটনকেন্দ্রটির গুরুত্ব বিবেচনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পাওয়া পর্যন্ত এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।










