এয়ারবাসের সঙ্গে বিমানের চুক্তি আজ


ঢাকাঃ বোয়িংয়ের পর এবার ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনছে বাংলাদেশ। এজন্য দুই পক্ষের মধ্যে আজ চুক্তি সই হবে। আর এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত হবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশের বহরে।
তবে ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে মোট কত অর্থ ব্যয় হবে, সে তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
রাজধানীর একটি হোটেলে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শিরোনামে বিমান ও এয়ারবাসের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
এতে বাংলাদেশ সরকার, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও এয়ারবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ৪টি এ৩৫০-৯০০ ও ৬টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কেনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে এ৩৫০-৯০০ হবে প্রশস্ত কাঠামোর (ওয়াইড বডি) উড়োজাহাজ।
এগুলো দিয়ে দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনা করা হবে। আর এ৩২১নিও হবে সরু কাঠামোর (ন্যারো বডি) উড়োজাহাজ, যা আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি হলেও উড়োজাহাজ সরবরাহের সময় নিয়ে এখনো সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। চুক্তি অনুযায়ী উড়োজাহাজের সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা ২০৩৩ সালে। তবে বাংলাদেশ চাইছে নির্ধারিত সময়ের আগেই অন্তত প্রথম উড়োজাহাজটি পেতে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লটজের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এয়ারবাসের সরবরাহের সময় এগিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি ২০৩০ সালের আগেই এয়ারবাসের উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন বিমানের বর্তমান বহরের বড় একটি অংশ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পুরনো হয়ে পড়বে। বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং ও পাঁচটি ড্যাশ-৮। বহরের ২টি উড়োজাহাজ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অন্য উড়োজাহাজগুলোরও কয়েক বছরের মধ্যে বয়সজনিত কারণে বহর থেকে বাদ দেয়ার প্রয়োজন হবে।
এ কারণে দীর্ঘমেয়াদি বহর পরিকল্পনার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে আরো ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেয়ার চেষ্টা করছে বিমান। একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো উড়োজাহাজ লিজ নিতে পারেনি সংস্থাটি।
এদিকে বিমানের বহর সম্প্রসারণে এরই মধ্যে বোয়িংয়ের সঙ্গে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। প্রথমে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হলেও পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ১১টি উড়োজাহাজ কেনার সুযোগ ব্যবহার করে সম্পূরক চুক্তি করা হয়েছে। এর সঙ্গে এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে নতুন উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫টিতে।
নতুন ৩৫টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে বর্তমানে থাকা ১৯টি উড়োজাহাজসহ বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ৫০ ছাড়াবে।
বিমানের তথ্য অনুযায়ী, নতুন উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে ১৯টি হবে প্রশস্ত কাঠামোর এবং ১৬টি সরু কাঠামোর। এতে দূরপাল্লার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুট পরিচালনায় বিমানের সক্ষমতা বাড়বে।
বর্তমানে বিমানের বহরের বড় অংশই বোয়িংয়ের তৈরি। এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত হলে প্রথমবারের মতো বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে বহর পরিচালনা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
এতে বহরের আকার ও রুট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়লেও দুটি নির্মাতার উড়োজাহাজ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ, যন্ত্রাংশ ও কারিগরি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হবে।










