বেনাপোল বন্দরে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য


বেনাপোল : টানা ৮ দিনের ছুটি শেষে পুনরায় সচল হয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বন্দরে পণ্য লোড-আনলোডের কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকেরা ।
দীর্ঘ ছুটির পর আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু হওয়ায় বন্দর এলাকায় ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য। পাশাপাশি সীমান্তের দুপাশে জমে থাকা পণ্যবাহী ট্রাকের জট কমতে শুরু করেছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে টানা আট দিন বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এ সময়ে পণ্য পরিবহন ও খালাস বন্ধ থাকায় বন্দরের দুই পাশে সৃষ্টি হয় যানজট ও পণ্যজট। কয়েক হাজার পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় আটকে পড়ে। তবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।
এদিকে, আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও এই ৮ দিন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল। ফলে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে যাত্রী পারাপারে কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আলহাজ মহসিন মিলন বলেন, টানা আট দিনের ছুটি শেষে শনিবার সকাল থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকেরা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে সীমান্তের দুপাশে পণ্যবাহী ট্রাকের জট তৈরি হয়েছিল। কয়েক হাজার ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ও পণ্য খালাস শুরু হওয়ায় যানজট এবং পণ্যজট কমতে শুরু করেছে। দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
দেশের আমদানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বেনাপোল স্থলবন্দর। স্থলপথে ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ এ বন্দর দিয়ে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ ট্রাক পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। ফলে দেশের শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থার জন্য বন্দরটির কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, টানা ৮ দিনের ছুটি শেষে শনিবার সকাল থেকে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। ছুটিতে থাকা বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে সৃষ্ট যানজট ও পণ্যজট নিরসনে দ্রুত পণ্য খালাসের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত পণ্য খালাস ও ট্রাক চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হলে সীমান্তের দুপাশে জমে থাকা পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ কমবে। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গতি ফিরবে এবং দেশের শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে স্বস্তি পাবে।
দীর্ঘ ছুটির পর বেনাপোল স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শ্রমিকদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। এখন সংশ্লিষ্ট সবার লক্ষ্য দ্রুত পণ্য খালাস, যানজট নিরসন এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে পূর্ণ গতিতে ফিরিয়ে আনা।










