ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতায় ভারতে উড়োজাহাজ চলাচলে বিপর্যয়


ঢাকাঃ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সোমবার (২ নভেম্বর) রাত থেকে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ইতোমধ্যে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চেন্নাই বিমানবন্দর থেকে ১১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, উপকূলে আঘাত হানার সময় ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে। তবে দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং অন্ধ্র প্রদেশের নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে।
সোমবার সকাল ৯টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি নেল্লোর থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল। এ ছাড়া চেন্নাই থেকে ১৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং কাভালি থেকে ১৮০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে ছিল এর অবস্থান। আগের ৬ ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ২২ কিলোমিটার গতিতে এগিয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় চেন্নাইয়ে কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় চেন্নাই ও তিরুভাল্লুর জেলার সব স্কুল-কলেজ সোমবার বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়েছে উড়োজাহাজ চলাচলেও।
চেন্নাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সোমবার ১১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে চেন্নাই-ভিজয়ওয়াড়া, চেন্নাই-রাজামুন্দ্রি, চেন্নাই-কাদাপা এবং চেন্নাই-তিরুচিরাপল্লি রুটের ফ্লাইট রয়েছে।
যাত্রীদের ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জানতে সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তেলেঙ্গানা রাজ্যের ৬টি জেলায় কমলা এবং পাঁচটি জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আইএমডি।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অন্ধ্র প্রদেশ। এর মধ্যেই নতুন ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর আগমন উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ।










