আকাশসীমা ব্যবহারে পাকিস্তানের অস্বীকৃতি কারিগরি বিষয় - হাইকমিশন


ঢাকাঃ বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে আকাশসীমা ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়টিকে একটি কারিগরি সমস্যা হিসেবে বর্ণনা করেছে পাকিস্তান।
মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশন এক ব্যাখ্যায় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নীতিমালার প্রতি পাকিস্তান তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি বজায় রাখে। আমাদের নির্ধারিত নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা ও বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল প্রোটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করে আমরা নির্দিষ্ট ও অনুমানযোগ্য সময়ের মধ্যে সকল কূটনৈতিক ফ্লাইট এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির আবেদনগুলো প্রক্রিয়া করি।
ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়,"সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, বিষয়টি ফ্লাইট রুট এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি সম্পর্কিত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে মাঝে মাঝে সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়, যার ফলে ফ্লাইটের সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।
পাকিস্তান হাইকমিশন উল্লেখ করে, পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিষয়টি সঠিক কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত এবং আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে তৈরি কোনো প্রতিবেদন বা বিবরণীকে অপ্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া অনুচিত।
পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার কারণে বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউরেনিয়াম পরিবহন ব্যাহত হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২য় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি ২৪ সেপ্টেম্বর পৌঁছানোর কথা ছিল, কিন্তু আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না থাকায় তা এখনও পৌঁছায়নি।
বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা শুনেছি বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে ফ্লাইটটিকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি, ফলে নির্ধারিত সময়ে ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি। পাকিস্তান কেন আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি।
তিনি আরও যোগ করেন, একটি নতুন তারিখ প্রস্তাব করা হয়েছে। রাশিয়া ইঙ্গিত দিয়েছে যে অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে এই ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম জ্বালানি ২৪ সেপ্টেম্বর পৌঁছানোর কথা থাকলেও আকাশসীমা সংক্রান্ত জটিলতায় তা পৌঁছাতে পারেনি।
বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা বিমানবন্দরে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অপেক্ষা করছিলাম, কিন্তু রোসাটমের লিয়াজোঁ অফিসার আমাদের জানান যে আকাশসীমা ব্যবহারে জটিলতা রয়েছে। তাই আমরা এটি পাঠাতে পারিনি। সময়সূচি নতুন করে নির্ধারণ করতে হতে পারে।
পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীরে রূপপুর গ্রামে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, প্রকল্পটি রুশ ফেডারেশনের স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি কর্পোরেশন (রোসাটম)-এর কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এই প্রকল্পের আওতায় দুটি তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) রিঅ্যাক্টর ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে, যা যৌথভাবে ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (আরএনপিপি) ১ম ইউনিটের জন্য নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালানের নিরাপদ আগমনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করে।
রোসাটমের নভোসিবির্স্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেটস প্ল্যান্টে উৎপাদিত ১৬৪টি ফ্রেশ ফুয়েল অ্যাসেম্বলি একটি ভারী রুশ কার্গো বিমানে করে রাশিয়ার মস্কো থেকে সরাসরি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়।
রাজধানী থেকে তেজস্ক্রিয়তা নিরোধক বিশেষ কনটেইনারগুলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় এক ‘গ্রিন করিডোর’-এর মাধ্যমে পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রকল্প এলাকায় পরিবহন করা হয়, যেখানে ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল।










