ব্যাংকক বিমানবন্দরে লাগেজ জট


ঢাকাঃ রাজধানী ব্যাংককে পানি কমতে শুরু করলেও পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে উড়োজাহাজ চলাচলে।
দেশটির প্রধান বিমানবন্দর সুবর্ণভূমিতে কর্মী সংকটে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হচ্ছে, আটকে আছে হাজারো যাত্রীর লাগেজ। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংককগামী ও ব্যাংকক থেকে পরিচালিত উড়োজাহাজ চলাচলে বিপাকে পড়েছে যাত্রীরা।
অপরদিকে, ভারি বৃষ্টি ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
ব্যাঙ্ককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট বলেছেন, আগামী ২ দিনের মধ্যে শহরের প্রধান সড়কগুলো থেকে বন্যার পানি সরে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের বড় ভূমিকা রয়েছে। বন্যার কারণে যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এই খাতেও প্রভাব পড়তে পারে।
ব্যাংককের প্রধান বিমানবন্দরগুলো চালু থাকলেও দেশটির সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর সুবর্ণভূমিতে এখনো ভোগান্তি চলছে।
থাইল্যান্ডের জাতীয় উড়োজাহাজ সংস্থা থাই এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, তাদের প্রায় অর্ধেক কর্মী কাজে যোগ দিতে পারেননি। এতে সংস্থাটির স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থাই এয়ারওয়েজ প্রায় ৩০টি ফ্লাইট বাতিল করার পরিকল্পনা করেছে। ওই দিন ব্যাংকক থেকে নির্ধারিত মোট ফ্লাইটের প্রায় ৩০ শতাংশ এটি।
এ ছাড়া বিমানবন্দরে থাই এয়ারওয়েজের প্রায় ৫ হাজার ৬০০টি ব্যাগ আটকে রয়েছে। থাই এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী চাই এমসিরি বলেন, গত দুই দিনে প্রায় সব ফ্লাইটই দেরিতে ছেড়েছে। সময়মতো ছেড়েছে ৩ শতাংশেরও কম ফ্লাইট। কর্মী সংকটের কারণে স্বাভাবিকভাবে উড়োজাহাজ পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
তিনি জানান, ব্যাঙ্কক থেকে থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইট কমিয়ে দেওয়ার এই পরিস্থিতি অন্তত আরও ৩ দিন চলতে পারে।
বিমানবন্দরে যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। আজারবাইজান থেকে ব্যাংককে আসা এমির দেমিরোজ তার লাগেজ খুঁজতে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। এরপর তার মালয়েশিয়াগামী একটি ফ্লাইট ধরার কথা ছিল।
তিনি বলেন, বিমানবন্দরে কেউ সঠিক তথ্য দিতে পারছেন না। কেউ তাদের সাহায্যও করতে পারছেন না। লাগেজ খুঁজে না পাওয়ায় পরের ফ্লাইটটি ধরতে পারবেন কি না, তা নিয়েও তিনি নিশ্চিত ছিলেন না। কর্মী সংকটের কারণে বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হলেও থাই এয়ারওয়েজের ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেছেন দেশটির পর্যটনমন্ত্রী সুরাসাক ফানচারোয়েনওরাকুল।
তিনি বলেন, থাই এয়ারওয়েজের কিছু কর্মীকে অন্য সংস্থার কাজে পাঠানো হয়েছিল। চুক্তির আওতায় বিমানবন্দরে বিভিন্ন সেবা দেওয়ার জন্য এসব কর্মী প্রয়োজন ছিল। জরিমানা এড়াতেই তাদের সেখানে পাঠানো হয়েছিল বলে জানান তিনি।
পর্যটনমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতি দেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনাকে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ব্যবস্থাপনা যদি দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে না পারে, তাহলে তাদের পদত্যাগ করা উচিত। তবে মন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য জানতে থাই এয়ারওয়েজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি।
এদিকে, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় মঙ্গলবার বড় অঙ্কের অর্থ অনুমোদন করেছে থাইল্যান্ডের মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানান, বন্যার প্রভাব মোকাবিলায় ৪০০ কোটি বাতের বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এই অর্থ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সহায়তা ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে।










