কক্সবাজারে পর্যটন ও বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা


কক্সবাজারঃ সেন্টমার্টিন, সাজেক ও বান্দরবানের পর এবার কক্সবাজারের পর্যটনশিল্প ও বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।
মেরিন ড্রাইভ এলাকায় রিসোর্ট ভাঙচুরসহ উচ্ছেদ অভিযান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে পর্যটন খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
এ পরিস্থিতিতে পর্যটনশিল্পের সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।
সম্প্রতি মেরিন ড্রাইভ এলাকায় রিসোর্ট ভাঙচুর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি পর্যটন উদ্যোক্তাদের নানা অভিযোগ, হতাশা ও ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। অনেক উদ্যোক্তার দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ, স্বপ্ন ও জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে বক্তব্যে উঠে আসে।
উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, পর্যটন খাতের জন্য সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা না থাকায় তাঁরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন। নীতিগত অসংগতি ও পরিকল্পনার ঘাটতির দায় শেষ পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের বহন করতে হচ্ছে বলেও তাঁরা মনে করেন।
লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, পর্যটনশিল্পের উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ- দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে উচ্ছেদ বা ভাঙচুরের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আইন, অনুমোদন, বিনিয়োগের বাস্তবতা এবং উদ্যোক্তাদের বক্তব্য বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। নির্বাচিত সরকারের সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, অতীতের কোনো নীতির কারণে সৃষ্ট জটিলতার দায় যেন উদ্যোক্তাদের এককভাবে বহন করতে না হয়। পর্যটন খাতের উন্নয়ন, বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার মধ্যে সমন্বয় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
কক্সবাজার বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। এ খাতের সঙ্গে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, পরিবহন, রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বহু মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। ফলে অপরিকল্পিত উন্নয়ন যেমন পরিবেশ ও উপকূলীয় প্রতিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তেমনি যথাযথ নীতিমালা ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটনশিল্পের টেকসই বিকাশে সরকারি জমি ও পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থাপনার বৈধতা যাচাই, অনুমোদনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের বক্তব্য শোনার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
একই সঙ্গে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আইন ও বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন। তবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হচ্ছে এটি শৃঙ্খলা ফেরাতে অভিযান।
- জাফর আলম










