জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতেও এমিরেটস গ্রুপের মুনাফা


ঢাকাঃ আঞ্চলিক সংঘাত, পরিচালনাগত প্রতিবন্ধকতা এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কর-পূর্ব মুনাফা অর্জন করেছে এমিরেটস গ্রুপ।
১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ৬ মাসের আর্থিক ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এমিরেটস এয়ারলাইন, ডানাটা এবং অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত এমিরেটস গ্রুপ জানিয়েছে, চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেও তাদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার কৌশল এ সাফল্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় গ্রুপটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ৬৬ শতাংশ কমে ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মোট রাজস্ব ১২ শতাংশ কমে ১৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। আগের অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে গ্রুপটির রাজস্ব ছিল ২০.৬ বিলিয়ন ডলার।
এমিরেটস এয়ারলাইন এককভাবে প্রথম ৬ মাসে ১ বিলিয়ন ডলার কর-পূর্ব মুনাফা অর্জন করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ মুনাফার পরিমাণ ছিল ৩.১ বিলিয়ন ডলার। অন্যান্য পরিচালনাগত আয়সহ এয়ারলাইনটির রাজস্ব ১৩ শতাংশ কমে ১৫.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে কর-পরবর্তী মুনাফা ৬৬ শতাংশ কমে ৯০৩ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
এমিরেটস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুম বলেন, গত ৬ মাস ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে গ্রুপটির ব্যবসায়িক মডেল এবং কর্মীরা সম্মিলিতভাবে সেই চ্যালেঞ্জ সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গ্রাহকদের চাহিদা স্থিতিশীল ছিল। কার্গো পরিবহন কার্যক্রম রাজস্ব ও নগদ অর্থের প্রবাহ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্ববাজারে জেট ফুয়েলের দাম আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হওয়া সত্ত্বেও গ্রুপটি উড়োজাহাজের বহর সম্প্রসারণ, পণ্য ও সেবার মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সক্ষমতা তৈরিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এমিরেটস তাদের ফ্লাইট নেটওয়ার্কের ৯১ শতাংশ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। দুবাইকে কেন্দ্র করে ৭৮টি দেশ ও অঞ্চলের ১৫০টি বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করছে এয়ারলাইনটি।
তবে প্রথম ৬ মাসে এমিরেটস ২ কোটি ১৮ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ কম। এ সময়ে সামগ্রিক পরিবহন সক্ষমতাও ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
অন্যদিকে এমিরেটসের কার্গো পরিবহন বিভাগ এমিরেটস স্কাইকার্গো এ সময়ে ১২ লাখ টন পণ্য পরিবহন করেছে। আগের বছরের তুলনায় পণ্য পরিবহনের পরিমাণ ১ শতাংশ কমলেও এ খাত থেকে আয় বেড়েছে ৫২ শতাংশ।
আকাশপথে পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা হ্রাস এবং সমুদ্রপথে পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় কার্গো খাতে আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এমিরেটস গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডানাটা একই সময়ে ৩ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ রাজস্ব কমেছে ৭ শতাংশ। তবে ডানাটার কর-পূর্ব মুনাফা ৫১ শতাংশ কমে ১১২ মিলিয়ন ডলার এবং কর-পরবর্তী মুনাফা ৫৬ শতাংশ কমে ৮৪ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এমিরেটস গ্রুপে মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জন। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের তুলনায় কর্মীর সংখ্যা ২ শতাংশ কমেছে। তবে ব্যবসায়িক ও পরিচালনাগত চাহিদা পূরণে এমিরেটস এবং ডানাটা উভয় প্রতিষ্ঠানই নতুন কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।
সামগ্রিকভাবে, আঞ্চলিক সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এমিরেটস গ্রুপের আয় ও মুনাফায় চাপ সৃষ্টি করলেও কার্গো পরিবহন, ব্যবসায়িক পুনর্গঠন এবং পরিচালনাগত দক্ষতার মাধ্যমে প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।










