অবশেষে টরন্টো ফ্লাইট ম্যানচেস্টারে থামবে সিদ্ধান্ত বিমানের

বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই কানাডার টরন্টোতে প্রথম সরাসরি ফ্লাইট চালিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। উদ্বোধনী ফ্লাইটের পর বিমান কর্তৃপক্ষের বোধোদয় হয়, এই গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব নয়। মাঝে একটা বিরতি নিতে হবে। তবে সেটি ট্রানজিট না কি স্টপ ওভার হবে, হলে কোথায় হবে তা তাদের মাথাব্যাথা হয়ে দাঁড়ায়।
এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে একটি কমিটি করা হয়েছিল। কমিটি সবদিক বিবেচনায় ম্যানচেস্টারের নাম প্রস্তাব করেছে। এটাই হচ্ছে বিমানের সম্ভাব্য স্টপওভার, বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
এবিষয়ে গঠিত বিমানের কমিটির একজন সদস্য এই প্রতিবেদককে বলেন, কমিটি ম্যানচেস্টারে ফ্লাইট স্টপওভারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ম্যানচেস্টারে ফ্লাইট ল্যান্ড করালে পরিচালন ব্যয় অনেকাংশে কমে আসবে। এছাড়াও ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে ইন্স্যুরেন্স গ্যারান্টিও বেশি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে টরন্টো রুটে সপ্তাহে ১৫০০ এবং মাসে ৬ হাজার যাত্রী নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ব্যবহার করবে।
প্রস্তুতি না নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনাকে রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থার চরম অপেশাদারীত্ব হিসেবে দেখছেন বিমান পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, টরন্টো ফ্লাইট চালুর বিষয়ে বিমানের যথাযথ প্রস্তুতি ছিল না। এর আগে নতুন কোনো গন্তব্যে বিমানের ফ্লাইট শুরুর সময় এমন অবস্থা দেখা যায়নি। এভাবে কেন ফ্লাইট চালু করা হলো, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন না ঘটে সে বিষয়েও কমিটির উচিৎ সকলকে সতর্ক করা বলে তারা অভিমত ব্যাক্ত করেছেন।
তাঁরা আরো বলেন , নতুন কোনো গন্তব্যে ফ্লাইট শুরুর আগে সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) করতে হয়। নতুন গন্তব্যে দূরত্ব অনুযায়ী যাত্রীর চাপ কেমন হবে, কী ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহার হবে, কোথাও বিরতি, ট্রানজিট নেওয়া হবে কি না, জ্বালানি কতটুকু লাগবে—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যাচাই করতে হয়। যাচাই শেষে পরিকল্পনা করে ফ্লাইট উদ্বোধন চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু কানাডার টরন্টো গন্তব্যের ক্ষেত্রে এগুলোর কোনোটিই করা হয়নি।
উল্লেখ্য যে, গত ২৬ মার্চ টরন্টো ফ্লাইটের উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ১৯ ঘণ্টা উড়ে ফ্লাইটটি টরন্টো পৌঁছে। ৩০ মার্চ দুপুরে ‘প্রুভেন ফ্লাইট’ নাম দিয়ে টরন্টো থেকে ১৬ ঘণ্টা উড়ে ফ্লাইট ঢাকায় নামে। বাণিজ্যিকভাবে পরীক্ষামূলক এ ফ্লাইটে বিমানের ৪ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়।










