পর্যটন খাত চাঙ্গা করতে স্থানীয় ভ্রমণে ভর্তুকি দেবে থাইল্যান্ড


ঢাকাঃ বিদেশী পর্যটক কমে যাওয়ায় থাইল্যান্ডের পর্যটন খাতে চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে বেড়েছে জ্বালানি ব্যয়ও। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যটন বাড়াতে নতুন কর্মসূচি নিয়েছে দেশটি। এ লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দেয়া হবে প্রায় ৪০০ কোটি বাথ।
থাইল্যান্ডের পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যটকদের থেকে অতিরিক্ত ২০ বিলিয়ন বাথ (প্রায় ৭৬৫ মিলিয়ন ডলার) আয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ক্যাবিনেট বৈঠকে প্যাকেজটি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।
কভিড-১৯-পরবর্তী সময়ে দেশটির পর্যটন খাত ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করা হলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। একদিকে বিদেশী পর্যটকদের আগমন ধীরগতি, অন্যদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় তৈরি হয়েছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।
চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাইল্যান্ডে ২ কোটি ১৭ লাখ বিদেশী পর্যটক গেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কম। পর্যটকদের ব্যয়ও ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক শূন্য ৬ ট্রিলিয়ন বাথে।
তবে বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা কমলেও অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ পরিস্থিতি কিছুটা ইতিবাচক। এ সময় থাই নাগরিকদের ভ্রমণের সংখ্যা ২ শতাংশ বেড়ে ১৪ কোটি ২০ লাখে পৌঁছেছে ও তাদের খরচ ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮২৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন বাথ।
নতুন ব্যবস্থার অধীনে সরকার স্থানীয় পর্যটকদের হোটেলে থাকার খরচে সর্বোচ্চ ২ হাজার বাথ পর্যন্ত ভর্তুকি দেবে। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, স্পা ও কেনাকাটার জন্য ২ হাজার বাথ মূল্যের ভাউচার দেয়া হবে। তুলনামূলক কম পরিচিত বা দ্বিতীয় সারির পর্যটন কেন্দ্রগুলোয় ভ্রমণের জন্য বেশি ছাড় সুবিধা রাখা হয়েছে। একজন নাগরিক সর্বোচ্চ পাঁচটি সুবিধা বা এন্টাইটেলমেন্ট ব্যবহার করতে পারবেন।
আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর ও পরবর্তী বছর ১৬ জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত এ ভর্তুকি দেয়া হবে।
এদিকে সরকারি এ সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।
থাই হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি থিয়েনপ্রাসিত চাইয়াপাত্রানুন জানান, নভেম্বরে পর্যটনের পিক সিজন শুরু হয়। তখন এমনিতেই বেশি মানুষ ঘুরতে যায়। তাই এ ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা পিক সিজনের বদলে অফ-সিজনে দেয়া উচিত ছিল। অর্থনীতিবিদরাও প্যাকেজটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
কাশিকর্ন রিসার্চ সেন্টারের অর্থনীতিবিদ নাট্টাপর্ন ট্রিরাটানাসিরিকুল মনে করেন, এ অর্থ দেশের জিডিপিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না, তবে বাজারে কিছুটা ইতিবাচক বার্তা দেবে।










