টাঙ্গুয়ার হাওড় : সৌন্দর্যের টানে বাড়ছে পর্যটন ও বিনিয়োগ


ঢাকাঃ সম্পদ আর সৌন্দর্যে ভরপুর টাঙ্গুয়ার হাওর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনন্য এ জলাভূমি পর্যটকদের কাছে বরাবরই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। বর্ষায় হাওরের রূপ যেন আরো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। স্বচ্ছ জলে নৌকা ভ্রমণ, রাতে জল-জোছনার মায়াবী খেলা আর চারপাশের নৈসর্গিক পরিবেশে তনু-মন দুটোই জুড়িয়ে যায়।
শেষ বিকালে উত্তরের সবুজ মেঘালয় পাহাড়ের সারি, আকাশজুড়ে ভেসে থাকা মেঘ আর হাওড়ের পানিতে পাহাড়-মেঘের ছায়ার মিতালি তৈরি করে অন্য রকম এক মায়াময় পরিবেশ। প্রকৃতির এ অপরূপ দৃশ্য চারপাশে ছড়িয়ে দেয় মুগ্ধতা।
টাঙ্গুয়ার হাওড়ে বেড়াতে এসে পর্যটকরা শুধু হাওড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করেই ফিরে যান না। ঘুরে দেখেন আশপাশের জাদুকাটা নদী, বারিক টিলা, শহীদ সিরাজ লেক (নীলাদ্রি লেক), শিমুল বাগান ও লাকমাছড়া। কাছাকাছি দূরত্বে থাকা এসব পর্যটন স্পটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একে অন্যকে যেন আরো পরিপূর্ণ করে তুলেছে।
হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে নিবন্ধিত বোটগুলোর মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাওড়ে ১৫০-১৬০টি হাউজবোট পর্যটনে নিয়োজিত আছে। ট্রলারসহ এ সংখ্যা ৩০০-এর বেশি। অ্যাসোসিয়েশন ভুক্ত বোটের সংখ্যা ১২২।
তারা জানান, পর্যটক সংখ্যাপ্রতি প্রায় ৫০ হাজারের মতো, যা ছুটির দিনে প্রায় সব হাউজ বোটই হাওড়ে পর্যটক নিয়ে আসে। অন্যান্য দিনে ২০-৩০টি হাউজ বোট চলাচল করে।
অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ও হাউজ বোট মুন অব টাঙ্গুয়ার মালিক মো. মাঈন উদ্দীন ফারুক জানান, ট্যুর থেকে প্রফিট বিষয়ে তিনি বলেন, একটি লাক্সারি হাউজ বোট তৈরিতে প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ হয়। প্রতি মৌসুমে আয় ২০-৩০ লাখ টাকা। মোটামুটি ৪ থেকে ৫ বছর লাগে বিনিয়োগ থেকে লাভ তুলতে। তবে কোনো কোনো মালিক আয়ের পরিমাণ আরেকটু বেশি জানিয়েছেন।
হাওরে পর্যটন বিকাশের প্রায় শুরু থেকেই খাতের সঙ্গে যুক্ত আছেন অমিত রায়। হাউজ বোট দ্য আর্ক-এর অন্যতম স্বত্বাধিকারী তিনি। তিনি মনে করেন, হাওড় বাঁচলে ট্যুরিজম বাঁচবে। প্রসার এমনিতেই ঘটবে। আমাদের ব্যবসাও ভালো হবে। এটা সম্ভাবনাময় খাত। এজন্য হাওড়েকে পরিষ্কার রাখতে হবে, নিরাপদ রাখতে হবে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওড়ে রক্ষায় এরই মধ্যে নানা পদক্ষেপ ও নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। কেউ এসব নির্দেশনা অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’










