সরকারি স্বীকৃতির পর প্রাণবন্ত গুলিয়াখালী সি-বিচ
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত। বিস্তীর্ণ সৈকতে সবুজ ঘাসের গালিচা দূর থেকে হাতছানি দেয়। সবুজ ঘাসের এমন সমুদ্র সৈকত বিশ্বজুড়ে মেলা দুষ্কর।
বাংলাদেশে সমুদ্র সৈকত বলতে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটা কিংবা পতেঙ্গায় বালুচরের যে দৃশ্য চোখে ভাসে গুলিয়াখালী সে হিসেবে ব্যতিক্রম। পাখি, ঢেউ, সবুজ আর বাতাসের মিতালির অনন্য সহাবস্থান দেখা যায় এ সৈকতে।
সরকারি স্বীকৃতি পাওয়ার পর নিরিবিলি এই সৈকতে এখন হাজারো প্রাণের কোলাহল। সম্প্রতি এখানে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে। এদিকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু করে হোটেল-মোটেল গড়ে তোলার জন্য গুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে।
হোটেল-মোটেল জোন করতে জায়গা অধিগ্রহণ ও খাস জায়গা সনাক্তের কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।
সৈকতটির সরকারি স্বীকৃতি পাওয়া বেশিদিন হয়নি। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতকে গত ১০ জানুয়ারি পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
ওই সময় প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ বা অন্য কোনরূপ কার্যক্রম গ্রহণের কারণে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত এলাকার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ২৫৯.১০ একর এলাকায় পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে বা ভবিষ্যতে আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এমতাবস্থায়, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প ও সেবা খাতের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে এবং পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকায় অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ বা অন্য কোনরূপ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণকল্পে বাংলাদেশ পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা ও বিশেষ পর্যটন অঞ্চল আইন, ২০১০ এর (৪) ধারার ক্ষমতাবলে এই এলাকা পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হলো।
এদিকে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ওই সমুদ্র সৈকতকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। কর্তৃপক্ষের ধারণা, সরকারি পরিকল্পনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় গুলিয়াখালী সৈকত হবে দেশের অন্যতম একটি পর্যটনস্থান।
-B










