থাইল্যান্ডে মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটক কমেছে ২৫ শতাংশ


ঢাকাঃ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে থাইল্যান্ডের পর্যটন খাত।
চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে ওই অঞ্চল থেকে থাইল্যান্ডে পর্যটক আসার সংখ্যা ২৫ শতাংশ কমে গেছে। থাইল্যান্ডের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশই আসে পর্যটন খাত থেকে। তাই হঠাৎ পর্যটক কমে যাওয়ায় দেশটির অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
থাইল্যান্ডের পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, গত জানুয়ারি-মে মাসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রায় দেড় লাখ পর্যটক দেশটিতে এসেছেন। ব্যাংককের পর্যটন এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, আগে যে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো দিনে ১০টির বেশি ট্যুর গ্রুপ সামলাত, এখন তারা মাসে ১০টি গ্রুপ পেতেই হিমশিম খাচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দোকান ভাড়া দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটকরা সাধারণত বড় পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করেন এবং দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। থাই সরকারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের একজন পর্যটক প্রতি সফরে প্রায় ২ হাজার ৭০০ ডলার (প্রায় ৮৮ হাজার বাত) খরচ করেন, যা সাধারণ পর্যটকদের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মোট পর্যটকের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যের দর্শনার্থীর সংখ্যা কম হলেও তাদের বিপুল খরচের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে তাদের বড় অবদান রয়েছে। ফলে তারা না আসায় অর্থনীতিতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বছরের প্রথম পাঁচ মাসে থাইল্যান্ডে বিদেশী পর্যটকের আগমন ২ শতাংশ কমে ১ কোটি ৪০ লাখে দাঁড়িয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে এ পতনের হার সবচেয়ে বেশি।
এ সংকট এমন একসময়ে দেখা দিল, যখন থাইল্যান্ড আগে থেকেই চীনা পর্যটক সংকটে ভুগছিল। গত বছর থাইল্যান্ড থেকে এক চীনা অভিনেতাকে অপহরণ করে মিয়ানমারের অনলাইন স্ক্যাম ও ক্যাসিনোয় নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর নিরাপত্তার আশঙ্কায় চীনা পর্যটকের সংখ্যা ২০ শতাংশ কমে যায়, যা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।
এরই মধ্যে থাইল্যান্ডের তৃতীয় বৃহত্তম পর্যটন বাজার ভারত থেকেও পর্যটক আসা কমে গেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটির নাগরিকদের বিদেশে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। এরপর মে মাসে ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা কমেছে। সব মিলিয়ে একাধিক বড় বাজার থেকে পর্যটক হারানোর ফলে থাইল্যান্ডের অর্থনীতি এখন তীব্র চাপের মুখে পড়েছে।










