বৃষ্টিধারায় মুখর পর্যটনকেন্দ্র : উচ্ছ্বসিত পর্যটক


কক্সবাজার : দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতজুড়ে শুক্র ও শনিবার (২০ জুন) ছিল নানা স্থান থেকে আগত দেশিবিদেশি পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়।
সাগরে বর্ষার মেঘ, সৈকতে রোদের মিশ্রণে মনোরম আবহাওয়া, সমুদ্রের গর্জন, সেই সঙ্গে শীতল বাতাস উপভোগ্য করে তোলে পরিবারপরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ছুটে আসা হাজারো পর্যটককে।
এদিন কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, সৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পর্যটকদের সরব উপস্থিতি। কেউ সাগরের ঢেউয়ে জলকেলিতে মেতেছেন, কেউ ব্যস্ত ছিলেন ছবি তুলে স্মৃতিবন্দি করতে। আবার অনেকে বিচবাইক বা ঘোড়ায় চড়ে ও জেটস্কি রাইডের মতো বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে উপভোগ করেন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত।
পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা মোমেন জানান, কর্মব্যস্ততার কারণে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ খুব কম মেলে। তাই ছুটিকে কাজে লাগিয়ে কক্সবাজারে এসেছেন। সমুদ্রের পরিবেশ ও আবহাওয়া তাঁদের ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করে তুলেছে।
রংপুর থেকে আগত শিক্ষার্থী আমেনা বলেন, ‘কক্সবাজারে এর আগে এলেও এবার প্রকৃতির সৌন্দর্য ও আবহাওয়ার কারণে ভিন্ন ধরনের প্রশান্তি অনুভব করছি। সমুদ্রের বাতাস ও প্রাকৃতিক পরিবেশ মনকে সতেজ করে তুলেছে।’
পর্যটক আনিস বলেন, ‘এক দিনের স্বল্পসময়ের ভ্রমণ হলেও সৈকতে এসে সব ধরনের মানসিক চাপ দূর হয়ে গেছে। বিশেষ করে বিচবাইক ও জেটস্কি রাইড ভ্রমণে বাড়তি আনন্দ যোগ করেছে।’
মাগুরার কামাল বলেন, ‘পরিবারের শিশু সদস্যদের নিয়ে সমুদ্র দেখতে এসেছি। শিশুরা সৈকতের পরিবেশে দারুণ আনন্দ উপভোগ করছে। নিরাপদ পরিবেশ থাকায় নিশ্চিন্তে সময় কাটাতে পারছি।’
চট্টগ্রামের ব্যস্ত নগরী থেকে আসা চাকরিজীবী আলী হাসানের মতে, ছুটির দিন কাটানোর জন্য কক্সবাজার অন্যতম সেরা একটা গন্তব্য। সৈকতের পরিচ্ছন্নতা, স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা তাঁদের মুগ্ধ করছে। পর্যটকদের আগমনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউস মালিকরা।
হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বর্তমানে পর্যটকদের জন্য অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেক আবাসিক হোটেলে সন্তোষজনক বুকিং রয়েছে। পর্যটকদের মানসম্মত সেবা দিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দেখা গেছে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, লাইফগার্ড ও বিচকর্মীরা। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্কতামূলক পতাকা টানানো হয়েছে এবং মাইকিং করে সচেতন করা হচ্ছে দর্শনার্থীদের।
বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কর্মীরা বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে থাকেন। পর্যটকদের নিরাপদ এলাকায় অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাউকে দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক করা হচ্ছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। সৈকত, হোটেল-মোটেল জোন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।










