প্রবাসীদের কড়া সতর্কবার্তা দিলো মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাস


ঢাকা: রাশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশী কর্মী ও শিক্ষার্থীদের যুদ্ধে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাস।
সম্প্রতি দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের জারি করা এক জরুরি সতর্কবার্তায় এ আহ্বান জানানো হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বার্তা প্রকাশ করা হয়।
বার্তায় বলা হয়, কিছু অসাধু চক্র অতিরিক্ত অর্থ, বিদেশী নাগরিকত্ব ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। শুরুতে পেছনের সারিতে কাজের আশ্বাস দেয়া হলেও পরে প্রতারণার মাধ্যমে তাদের ড্রোন হামলাসহ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সম্মুখসারির দায়িত্বে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
এতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি “সার্ভিস ভিসা” নামের একশ্রেণীর বিশেষ ভিসায় অনেকে বিদেশে আগমন করছেন, যা দূতাবাস কর্তৃক যাচাইকৃত নয়। এ শ্রেণীর ভিসার মাধ্যমে আসতে হলে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে যেসব চাহিদাপত্র দূতাবাস কর্তৃক সত্যায়নকৃত নয় সেসব কাজ পরিহার করাই বাঞ্ছনীয়। কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কোম্পানিতে কয়েক মাস কাজ করার পর প্রত্যাশিত বেতন না পেয়ে তারা বেশি টাকার লোভে যুদ্ধে চলে যাচ্ছেন। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত পরিবারের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হতে পারে।’
দূতাবাস জানায়, প্রাথমিকভাবে কম বেতন পাওয়ায় বেশি আয়ের আশায় অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা তাদের এবং তাদের পরিবারের জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে।
সতর্কবার্তায় আরো বলা হয়, রাশিয়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত কিছু বিদেশী শিক্ষার্থীকে ড্রোন পরিচালনা, ড্রোন সংযোজন ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধে ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া গেছে। তাই পড়াশোনার উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় গিয়ে কোনো ধরনের সামরিক বা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া পার্টটাইম চাকরি করা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থান করা কিংবা এক প্রতিষ্ঠানের ভিসা নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করা রাশিয়ার আইনে গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ বলে উল্লেখ করেছে দূতাবাস। পাশাপাশি মাদক সেবন ও যেকোনো ধরনের হয়রানিমূলক আচরণ থেকেও দূরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ভিসার মেয়াদ ও কোম্পানি পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বার্তায় বলা হয়, ‘অনেক প্রবাসী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও রাশিয়ায় থেকে যাচ্ছেন অথবা এক কোম্পানির ভিসা এনে অন্য কোম্পানিতে কাজ করছেন, যা রুশ আইনে অপরাধ। এর ফলে পুলিশি গ্রেফতার, জরিমানা ও নির্বাসনের শিকার হচ্ছেন অনেকে। আইন মেনে না চললে দূতাবাস কোনো সহায়তা করতে পারবে না বলেও এতে জানানো হয়।
কোনো অস্বাভাবিক প্রস্তাব পেলে অথবা আইনি জটিলতায় পড়লে দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয় বার্তায়। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে আইন লঙ্ঘন করলে দূতাবাস কোনো সহায়তা দেবে না বলেও জানানো হয়।










