বৈশ্বিক উড়োজাহাজ খাত : লাগেজ হারানোর ঘটনা কমেছে


ঢাকাঃ বহু বছর ধরে লাগেজ হারিয়ে যাওয়া বা ভুল জায়গায় চলে যাওয়া উড়োহাজাজ খাতের অন্যতম প্রধান সমস্যা। ফলে প্রতি বছর লাখ লাখ যাত্রী তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী হারিয়ে ভোগান্তির শিকার হন। তবে এখন পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এভিয়েশন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান সীতা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে বিশ্বজুড়ে লাগেজ ব্যবস্থাপনার ত্রুটি বা ভুল জায়গায় ব্যাগ পাঠানোর হার ২৩ শতাংশ কমেছে। লাগেজ ব্যবস্থাপনার এ বৈশ্বিক উন্নতিতে শীর্ষে আছে মধ্যপ্রাচ্য। এ অঞ্চলে প্রতি এক হাজার যাত্রীর বিপরীতে ৫ দশমিক ৩টি ব্যাগ ভুল জায়গায় যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সীতার মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও তুরস্ক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট সেলিম বুরি জানান, এ সাফল্যের মূল কারণ হলো প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার। মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দরগুলো আধুনিক প্রযুক্তি বাস্তবায়নে অনেক এগিয়ে রয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এখনো অনেক ব্যাগ ভুল জায়গায় যাচ্ছে। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য এ হার শূন্যে নামিয়ে আনা।
তিনি আরো জানান, প্রতিটি হারানো ব্যাগ যাত্রীদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে। এছাড়া ব্যাগ হারানোর কারণে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি সহ্য করতে হয়।
সীতার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রতিটি ভুল স্থানে যাওয়া ব্যাগের কারণে এয়ারলাইনসগুলোর গড়ে ২৬০ ডলার খরচ হয়। মধ্যপ্রাচ্যে এ খরচের পরিমাণ প্রতি ব্যাগে আরো বেশি, প্রায় ২৮০ ডলার।
সেলিম বুরি বলেন, ‘একটি মাত্র ব্যাগ হারালে উড়োজাহাজ সংস্থাকেও মুনাফার একটি বড় অংশ হারাতে হয়। যেমন একটি ব্যাগ হারানোর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ওই ফ্লাইটের অন্তত ৩০ জন যাত্রীর টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ গুনতে হয়। কোনো ফ্লাইটে যদি পাঁচটি ব্যাগ ভুল জায়গায় চলে যায়, তবে পুরো ফ্লাইটের মুনাফা নষ্ট হয়।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, অতীতে লাগেজ হারিয়ে যাওয়াকে বিমান ভ্রমণের একটি স্বাভাবিক সমস্যা হিসেবে ধরে নেয়া হতো। তবে নতুন পরিসংখ্যান বলছে যে খাতটির ধারাবাহিক অগ্রগতি হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে ২০২৪ সালে এসব ব্যাগের সংখ্যা ছিল তিন কোটি। গত বছর তা কমে ২ কোটি ৪০ লাখে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে যাত্রীদের প্রত্যাশাও বদলে গেছে। অনলাইন কেনাকাটায় পার্সেল ডেলিভারি ট্র্যাকিংয়ের মতো যাত্রীরা এখন লাগেজের অবস্থানও সরাসরি দেখতে চান। এ চাহিদা মেটাতে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।












