কানাডায় চলছে উড়োজাহাজ পরিষেবা সংস্থা ওয়েস্টজেটের ধর্মঘট


ঢাকা : কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম উড়োজাহাজ পরিষেবা সংস্থা ওয়েস্টজেটের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট বিভাগের কর্মীদের ধর্মঘটের কারণে স্থবির অবস্থায় আছে প্রায় ৬০০ ফ্লাইট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে কমপক্ষে দুই লাখ ৫০ হাজার যাত্রী।
ধর্মঘটের মূল কারণ বেতন সংক্রান্ত বিরোধ। বিশেষ করে উড়োজাহাজ আকাশে ওড়ার আগে তারা যে কাজ করেন, সেই সময়ের পারিশ্রমিক নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
উড়োজাহাজ চলাচল খাতে এই পারিশ্রমিককে ‘গ্রাউন্ড পে’ বলা হয়। ক্যালগারিভিত্তিক ওয়েস্টজেট কানাডা ও বিশ্বের ১৩০টির বেশি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করে।
সংস্থাটি বলেছে, তারা আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং এমন একটি সাময়িক চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, যেখানে ওয়েস্টজেটের কেবিন ক্রুদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি থাকবে।
ইউনিয়নের দেওয়া ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘটের নোটিশ রবিবার (২ অগাস্ট)স্থানীয় সময় রাত ২টা ১ মিনিটে শেষ হয়। তখন দেশের বেশির ভাগ এলাকায় দীর্ঘ ছুটির সপ্তাহান্ত চলছিল।
কানাডার কর্মসংস্থানমন্ত্রী প্যাটি হাজদু রবিবার এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ধর্মঘটকে 'হতাশাজনক ঘটনা' বলে উল্লেখ করেন। তিনি দুই পক্ষকে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে বিরোধ শেষ করতে অটোয়া সরকার হস্তক্ষেপ করবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। এর আগে এমন পরিস্থিতিতে সরকার হস্তক্ষেপ করেছে।
ওয়েস্টজেট জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়া হবে অথবা অন্য ফ্লাইটে ব্যবস্থা করা হবে।
ওয়েস্টজেট জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত ৬০০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে যাত্রীদের নিজেদের ফ্লাইটের অবস্থা দেখে নিতে বলা হয়েছে।
কানাডার উড়োজাহাজ যাত্রী আইন অনুযায়ী, কোনো ফ্লাইট বাতিল হলে উড়োজাহাজ সংস্থাকে যাত্রীদের পরবর্তী পাওয়া যায় এমন ফ্লাইটে তুলে দিতে হবে। এটি নিজেদের উড়োজাহাজ বা অংশীদার সংস্থার উড়োজাহাজ হতে পারে। দুটির কোনোটিই না পাওয়া গেলে প্রতিযোগী অন্য কোনো উড়োজাহাজ সংস্থার ফ্লাইটে ব্যবস্থা করতে হবে।
কানাডার অলাভজনক ভোক্তা সংগঠন এয়ার প্যাসেঞ্জার রাইটস জানিয়েছে, ধর্মঘট শুরু হয়ে গেলে যাত্রীর অধিকার নির্ভর করবে তার ভ্রমণ পরিকল্পনার ওপর। যাত্রীরা বিনা খরচে যেকোনো বিমান সংস্থার পরবর্তী ফ্লাইটে যেতে পারবেন। এর মধ্যে প্রতিযোগী সংস্থার ফ্লাইটও থাকতে পারে।
অথবা বাতিল হওয়া ফ্লাইটের কারণে ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিলে যাত্রীরা পুরো টাকা ফেরত চাইতে পারবেন। একই সঙ্গে বিমান সংস্থাকে বিনা খরচে যাত্রীদের মূল যাত্রাস্থলে ফিরিয়ে দিতে হবে। তবে সংগঠনটি সতর্ক করেছে, যাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় কেউ আগে থেকেই নিজের ফ্লাইট পরিবর্তন বা বাতিল করলে কিছু ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার নাও থাকতে পারে। যেসব যাত্রী আটকে পড়েছেন, তারা উড়োজাহাজ সংস্থার নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং নিরাপত্তাজনিত নয় এমন বিলম্বের জন্য কিছু ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রাখেন।
রবিবার ধর্মঘট শুরু হওয়ার সময় ইউনিয়নের ওয়েবসাইটে শুধু লেখা ছিল, 'ধর্মঘট চলছে'। সেখানে একটি হিসাব দেখানো হচ্ছিল, যেখানে বলা হয়েছে ওয়েস্টজেটের কেবিন ক্রুরা ২১৩ দিন ধরে, ঘণ্টা ও মিনিটসহ, কোনো বৈধ যৌথ চুক্তি ছাড়া কাজ করছেন। বেতনের বিষয়টি বড় বিরোধের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউনিয়নের দাবি, উড়োজাহাজ ওঠার আগে করা কাজের জন্য ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মাসে ৩৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে হয়।
ইউনিয়নের একটি প্রচারমূলক ওয়েবসাইটে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা বলেন, 'যাত্রী ওঠানো, নিরাপত্তা পরীক্ষা, যাত্রীদের সহায়তা করা এবং মাটিতে অপেক্ষার সময়—সবকিছুর খরচ আমাদের নিজেদের বহন করতে হচ্ছে।'
ওয়েস্টজেট তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে, ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা এমন সময়ের ভিত্তিতে পারিশ্রমিক পান, যা বিমান গেট ছাড়ার পর শুরু হয় এবং পরবর্তী গেটে পৌঁছানোর পর শেষ হয়। সংস্থাটি বলেছে, উত্তর আমেরিকার কেবিন ক্রুদের জন্য এটাই প্রচলিত বেতন পদ্ধতি।
উড়োজাহাজসংস্থাটি জানিয়েছে, নির্ধারিত ঘণ্টাভিত্তিক বেতন ব্যবস্থায় উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণের আগের কাজের পারিশ্রমিকও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
ওয়েস্টজেটের তথ্য অনুযায়ী, কেবিন ক্রুরা প্রতি ঘণ্টায় ২৮ কানাডিয়ান ডলার (২০ ডলার; ১৫ পাউন্ড) থেকে ৫৮ কানাডিয়ান ডলার (৪১ ডলার; ৩১ পাউন্ড) পর্যন্ত আয় করেন।










