রুশ তৎপরতায় মার্কিন উড়োজাহাজের যাত্রা বাতিল


ঢাকাঃ দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের আকাশে রাশিয়ার একটি রহস্যময় ‘মহাকাশ কার্যক্রমের’ কারণে অ্যান্টার্কটিকাগামী মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি পরিবহন উড়োজাহাজকে মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে হয়।
মহাকাশ কার্যক্রমটি কী ছিল, তা এখনো জানা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট আকাশসীমায় মহাকাশযানের ধ্বংসাবশেষ পড়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে আগেই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
নিউজিল্যান্ডের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন বিমান বাহিনীর সি-১৭ গ্লোবমাস্টার পরিবহন উড়োজাহাজটি নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে। এর গন্তব্য ছিল অ্যান্টার্কটিকার ম্যাকমার্ডো স্টেশন। কিন্তু উড্ডয়নের প্রায় ২ ঘণ্টা পর দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের ওপর থেকে উড়োজাহাজটি ঘুরে ক্রাইস্টচার্চে ফিরে যায়।
ফ্লাইট রাডার সফটওয়্যার ব্যবহারকারী উড়োজাহাজ পর্যবেক্ষকেরা প্রথমে সি-১৭-এর গতিপথ পরিবর্তনের বিষয়টি শনাক্ত করেন। পরে নিউজিল্যান্ডের বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, রাশিয়ার এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন অ্যান্টার্কটিকাগামী উড়োজাহাজ চলাচলের পথে সম্ভাব্য বিপজ্জনক মহাকাশ কার্যক্রমের সতর্কতা দেয়ার পর সি-১৭ ফিরে যায়।
রাশিয়ার ওই কার্যক্রমের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন বিমান বাহিনীও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি।
এর আগে ১০ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএএ অস্ট্রেলিয়া ও ভারত মহাসাগরের ওপর বিস্তৃত একটি আকাশসীমার জন্য ‘নোটিশ টু এয়ারম্যান’ বা নোটাম জারি করে। মেলবোর্ন ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়ন নামে পরিচিত বিশাল ওই এলাকার সংকেত ওয়াইএমএমএম।
নোটামে বলা হয়, ১৪ আগস্ট থেকে ওই অঞ্চলে ‘রাশিয়ার মহাকাশসংক্রান্ত কার্যক্রম’ চলবে। একই সঙ্গে আকাশসীমার কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ পড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। ঐদিনও সতর্কতাটি কার্যকর ছিল। তবে এই নোটামের কারণেই মার্কিন উড়োজাহাজটি ফিরেছিল কিনা, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মহাকাশযান ও রকেটের ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের কারণে একাধিকবার আকাশসীমা বন্ধ রাখতে হয়েছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে চীনের লং মার্চ ৫বি রকেটের মূল অংশ অনিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করেছিল। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সে সময় স্পেনের কয়েকটি আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সপ্তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সময় স্পেসএক্সের স্টারশিপ বিস্ফোরিত হলে আটলান্টিক মহাসাগরের টার্কস অ্যান্ড কাইকোস দ্বীপপুঞ্জের কাছে জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে। এফএএ তখন সংশ্লিষ্ট এলাকায় ‘ডেব্রিস রেসপন্স এরিয়া’ চালু করে। ফলে কয়েকটি উড়োজাহাজকে গতিপথ পরিবর্তন করে বিকল্প বিমানবন্দরে যেতে হয়েছিল।
একই মাসে সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়, মহাকাশযানের অনিয়ন্ত্রিত ধ্বংসাবশেষ ব্যস্ত আকাশসীমায় প্রবেশের আশঙ্কা ২৬ শতাংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মহাকাশ কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উড়োজাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
তবে রাশিয়ার সতর্কতার সঙ্গে মহাকাশযানের ধ্বংসাবশেষের সম্পর্ক নাও থাকতে পারে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো উচ্চতায় উড্ডয়নকারী অস্ত্র পরীক্ষার সময়ও বিভিন্ন দেশ এ ধরনের সতর্কতা জারি করে। অবশ্য সাধারণত এসব পরীক্ষা আগে থেকে পরিকল্পিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট নোটিশও উড়োজাহাজের যাত্রার অনেক আগেই প্রকাশ করা হয়।










