আইকনিক রেলস্টেশন: স্বপ্নের স্থাপনা, অধরা সেবা


কক্সবাজার : পর্যটন নগরীর ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। প্রায় ৩ বছর পার হলেও ২১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে পারেনি রেলওয়ে।
দীর্ঘদিন ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অবকাঠামো, আসবাব ও সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে। স্টেশনসংলগ্ন রেলপাত ও বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির অভিযোগও রয়েছে।
প্রায় ৬০ একর জমিতে নির্মিত ৬তলা স্টেশন ভবনে ৬৫০ মিটার প্ল্যাটফর্ম, শপিং সেন্টার, হোটেল, মাল্টিপারপাস হল, আবাসিক কোয়ার্টার, ডরমিটরি ও পার্কিং সুবিধা রয়েছে। তবে জনবল সংকট ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় শুধু নিচতলা সীমিতভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
উপকূলীয় আর্দ্রতা ও লবণাক্ততার কারণে পাইপ, বাথরুম, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিভিন্ন ফিটিংস নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পরিদর্শন প্রতিবেদনে স্টেশনটি দ্রুত চালুর পাশাপাশি শপিং সেন্টার, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও মাল্টিপারপাস হল চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে যাত্রীসেবা বাড়ার পাশাপাশি রাজস্ব আয়ও হবে।
দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের ১০০.৮৩ কিলোমিটারে ৩৮টি সেতু ও নয়টি স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিদিন ৩১ জোড়া ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে চলছে মাত্র চার জোড়া। স্টেশনে জনবলও প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
এদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় স্টেশন পরিচালনার প্রথম দরপত্রে ৮টি প্রতিষ্ঠান শিডিউল কিনলেও কেউ প্রস্তাব জমা দেয়নি। ২৫ জানুয়ারি দরপত্র আহ্বান করে ৬ এপ্রিল তা জমা দেওয়ার সময়সীমা ছিল।
প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন দাবির পর শর্ত শিথিল করে নতুন দরপত্রের প্রস্তুতি চলছে। রেলওয়ে আশা করছে, চলতি বছরের মধ্যেই স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য স্টেশন ভবনে প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৭ বর্গফুট জায়গা রয়েছে।
- জাফর আলম



