বৈশ্বিক যাত্রী চাহিদা স্থির, কার্গোতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি


ঢাকাঃ আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে বৈশ্বিক উড়োজাহাজ যাত্রী পরিবহনের চাহিদা সামান্য বেড়েছে। তবে একই সময়ে আকাশপথে পণ্য পরিবহনের (এয়ার কার্গো) বাজারে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
আইএটিএর তথ্য অনুযায়ী, রাজস্ব যাত্রী-কিলোমিটার (আরপিকে) হিসেবে পরিমাপ করা বৈশ্বিক যাত্রী চাহিদা জুলাইয়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ০.২ শতাংশ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বাদ দিলে এই প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ১.২ শতাংশে। এ সময়ে এভেইলেবল সিট-কিলোমিটার (এএসকে) হিসেবে পরিমাপ করা এয়ারলাইনগুলোর সক্ষমতা বেড়েছে ০.৩ শতাংশ। বৈশ্বিক যাত্রী লোড ফ্যাক্টর ছিল ৮৫.২ শতাংশ, যা এক বছর আগের তুলনায় ০.১ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।
আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনের চাহিদা জুলাইয়ে ০.১ শতাংশ কমেছে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইনগুলো বাদ দিলে আন্তর্জাতিক চাহিদা ১.৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ রুটে চাহিদা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ০.৬ শতাংশ বেড়েছে। এ খাতে সক্ষমতা ০.২ শতাংশ বাড়ার পাশাপাশি যাত্রী লোড ফ্যাক্টর ৮৫.৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
ইউরোপ-এশিয়া রুটে ১২.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি
অঞ্চলভেদে যাত্রী পরিবহনে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। ইউরোপীয় এয়ারলাইনগুলোর আন্তর্জাতিক যাত্রী চাহিদা ৩.১ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে উড়োজাহাজ চলাচলে চাহিদা বেড়েছে ১২.১ শতাংশ, যা প্রধান আন্তর্জাতিক রুটগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।
লাতিন আমেরিকার এয়ারলাইনগুলো ৭.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আফ্রিকার এয়ারলাইনগুলোর প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬.৪ শতাংশ। বিপরীতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে যাত্রী চাহিদা ০.৭ শতাংশ কমেছে। উত্তর আমেরিকায় কমেছে ২.৩ শতাংশ। সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইনগুলোতে—চাহিদা কমেছে ৯.৫ শতাংশ।
আইএটিএ জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের (গালফ) হাবগুলো দিয়ে উড়োজাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। একই সঙ্গে বছরের বাকি সময়ের যাত্রী চাহিদা নিয়েও এয়ারলাইনগুলো আশাবাদী রয়েছে।
জুলাইয়ে এয়ার কার্গো চাহিদা বেড়েছে ৩.৯ শতাংশ
এদিকে, জুলাইয়ে বৈশ্বিক এয়ার কার্গো চাহিদা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৯ শতাংশ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক কার্গো পরিবহনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে আরও বেশি—৪.৭ শতাংশ। এ সময়ে বৈশ্বিক কার্গো পরিবহন সক্ষমতা ১.৭ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক কার্গো সক্ষমতা ১.৮ শতাংশ বেড়েছে।
আঞ্চলিক হিসাবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের এয়ারলাইনগুলোর কার্গো চাহিদা বেড়েছে ৪.১ শতাংশ। উত্তর আমেরিকার এয়ারলাইনগুলো ৪.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে আঞ্চলিকভাবে সবচেয়ে ভালো করেছে। ইউরোপে কার্গো প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৪ শতাংশ। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে বেড়েছে ৪.১ শতাংশ।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এয়ার কার্গো চাহিদা ১.৭ শতাংশ বেড়েছে। আফ্রিকায় প্রবৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে কম—১.১ শতাংশ।
আইএটিএ বলেছে, জুলাইয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৫ শতাংশ বেড়েছে, যা এয়ার কার্গো বাজারের প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। তবে একই সময়ে জেট ফুয়েলের দাম ১২.২ শতাংশ বেড়েছে। এক বছর আগের তুলনায় জেট ফুয়েলের দাম ৫৬.৯ শতাংশ বেশি ছিল, যা এয়ারলাইনগুলোর জন্য বড় ধরনের ব্যয়ের চাপ তৈরি করছে।
প্রধান বাণিজ্যিক রুটগুলোর মধ্যে এশিয়া-উত্তর আমেরিকা রুটে কার্গো প্রবৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে বেশি। এরপর ছিল ইউরোপ-এশিয়া এবং ইউরোপ-উত্তর আমেরিকা রুট। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল-সংযুক্ত রুটগুলো এখনো প্রভাবিত হচ্ছে।










