পর্যটন নগরীতে যাবে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’


ঢাকাঃ ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যাত্রী চাহিদা মেটাতে নতুন একটি ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব ঠিক থাকলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সমুদ্র নগরীতে যাবে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’।
ঢাকা থেকে ট্রেন ছেড়ে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারে দৈনিক ৭০০ করে প্রায় দেড় হাজার যাত্রী নিয়ে চলাচল করবে। তবে কক্সবাজার রুটটি লাভজনক হলেও শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের।
পাশাপাশি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অংশের সিঙ্গেল লাইন, স্বল্পদৈর্ঘ্যরে লুপ লাইন, লোকোমোটিভসংকট এবং কক্সবাজারে ওয়াশফিট ও মেরামত সুবিধার ঘাটতি নিয়ে নতুন এ যাত্রা কতটুকু যাত্রীবান্ধব হবে, তা এখন দেখার অপেক্ষা।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (সিওপিএস) মো. সফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন স্টেশনে বিরতি দিয়ে একটি ট্রেনকে কক্সবাজার পর্যন্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ষোলশহর-দোহাজারী অংশের সিঙ্গেল লাইন ও লুপ লাইনের কারণে কিছু ক্রসিং সমস্যা প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। সবকিছু ঠিক করার পর ট্রেনটি কক্সবাজার রুটে চালু করা হবে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ দিনে একবার ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাবে এবং একবার কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফিরবে। কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেনটি চালু হলে এর সময়সূচিতেও পরিবর্তন আসবে।
৭২১ ও ৭২২ নম্বর ‘মহানগর এক্সপ্রেস’-এর নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনটি ছেড়ে ভোর ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। ফিরতি ট্রেনটি সকাল ৯টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। বর্তমানে মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা-চট্টগ্রাম অংশে নরসিংদী, ভৈরববাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও কুমিরাসহ বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হলে এসব এলাকার যাত্রীরা সরাসরি পর্যটন নগরীতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কমলাপুর থেকে রাত সাড়ে ৮টায় ছেড়ে ট্রেনটি সকাল ৬টার দিকে কক্সবাজারে পৌঁছাবে। কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফিরতি ট্রেন ছাড়বে সকাল ৯টায়। একদিকে যাত্রায় সময় লাগবে প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা। বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে দুই জোড়া বিরতিহীন আন্তনগর এবং চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে আরও দুই জোড়া আন্তনগর ট্রেন চলাচল করছে।
নতুন ট্রেনটি চালু হলে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে ট্রেনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে তিন জোড়া বা ছয়টি। চট্টগ্রাম থেকে চলাচলকারী দুই জোড়া ট্রেন যুক্ত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে মোট পাঁচ জোড়া আন্তনগর ট্রেন চলাচল করবে। দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথে দৈনিক ৩১ জোড়া ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় নতুন ট্রেন চালুর এ উদ্যোগে বিদ্যমান রেল অবকাঠামোর সক্ষমতা নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে আসছে। কারণ ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথের প্রায় দেড় শ কিলোমিটার অংশ এখনো সিঙ্গেল লাইন। এর সঙ্গে রয়েছে তীব্র লোকোমোটিভসংকট।
স্বল্পদৈর্ঘ্যরে লুপ লাইন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত রিলিফ ট্রেন না থাকায় ট্রেন অপারেশন ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়াও জানালী হাট, গোমদণ্ডী ও ষোলশহর স্টেশনে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের দীর্ঘ রেকের ট্রেনের ক্রসিং করা সম্ভব নয়। ফলে কোনো একটি ট্রেন সময়সূচি অনুযায়ী নির্ধারিত স্টেশনে পৌঁছতে ব্যর্থ হলে সেটিকে আগের কোনো স্টেশনে অপেক্ষা করাতে হতে পারে। এতে যাত্রার সময় ১ ঘণ্টা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



