কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং যেন মারণফাঁদ


কক্সবাজার: কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের হিমছড়ি ও দরিয়ানগর সৈকতের ৫টি প্যারাসেইলিং প্রতিষ্ঠান যেন মারণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
এসব প্যারাসেইলিংয়ে গত দুই বছরে অন্তত ১০ পর্যটক নানাভাবে আহত হয়েছেন। গতকাল প্রাণ গেল এক পর্যটকের। অভিযোগ রয়েছে, যাঁরা প্যারাসেইলিং পরিচালনা করছেন, তার মধ্যে অনেকেই অদক্ষ। আর মানছেন না প্রশাসনের নির্দেশনা ও শর্ত।
প্যারাসেইলিং করতে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে কয়েকজন পর্যটক আহত হওয়ার পর গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্যারাসেইলিং পরিচালনা কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল প্রশাসন। তবে রহস্যজনক কারণে আবারও চালু করা হয়।
দরিয়ানগরে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করছে ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং’ নামের বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ ফরিদ বলেন, তাঁদের চারটি প্যারাসেইলিং, দুটি জলযান জেট স্কি, পাঁচটি স্পিডবোট আছে। শনিবার (১ আগস্ট) তাঁর প্রতিষ্ঠানেই প্যারাসেইলিংয়ের সময় এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্যারাসেইলিংয়ের টিকিট কেনার সময় উড্ডয়নকারীকে কাগজে অঙ্গীকারনামা বা চুক্তিতে সই করতে হয়। চুক্তিতে লেখা থাকে প্যারাসেইলিং করার সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সেটার দায়দায়িত্ব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নেবে না। অর্থাৎ প্যারাসেইলিং করার সময় নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে নিজেকেই সতর্ক থাকতে হয়। আর এই সূক্ষ্ম সুযোগ কাজে লাগিয়ে যেন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে প্যারাসেইলিং প্রতিষ্ঠানগুলো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ৩০ আগস্ট দরিয়ানগর এলাকায় প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পড়ে এক পর্যটক ঝাউ গাছের সঙ্গে ঝুলে ছিলেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। ‘স্যাটেলাইট ভিশন সি স্পোর্টস’ পরিচালিত প্যারাসেইলিং রাইডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনার পরদিন থেকে সৈকতের সব ধরনের প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ রাখে জেলা প্রশাসন।
স্যাটেলাইট ভিশন সি স্পোর্টসের ব্যবস্থাপক নুর মোহাম্মদ বলেন, প্যারাসেইলিং ওড়াতে গেলে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। আকাশে ওঠার আগে এ সময় নিয়ম শিখিয়ে দেওয়া হয়। নিচ থেকে হ্যান্ডমাইকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়। অনেক সময় পর্যটকরা তা ফলো করতে না পারলে দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে গতকাল প্যারাসেইলিং চলাকালে হঠাৎ নিরাপত্তা হারনেস থেকে শৌভিক রায় (৩০) নামে এক পর্যটক ছিটকে সমুদ্রে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে সি স্পোর্টস প্যারাসাইলিং কর্তৃপক্ষ তাঁকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুবক্তগীন মোহাম্মদ সোহেল জানান, বেলা ২টা ১০ মিনিটে তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পানিতে পড়ে ডুবে যাওয়ায় মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি। প্রশাসনের অগোচরে প্যারাসেইলিং পরিচালিত হচ্ছিল, পর্যটক মৃত্যুর ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


