সংকুচিত হচ্ছে কুয়াকাটা সৈকত, হুমকিতে পর্যটন


পটুয়াখালী : সাগরকন্যা কুয়াকাটার সৈকত ঘিরেই গড়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতি।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগের এই সৈকত। কিন্তু অব্যাহত ভাঙনে সৈকতের পরিসর কমে যাওয়ায় একদিকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে হুমকিতে পড়ছে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা।
বছরের পর বছর অব্যাহত ভাঙনে ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে দীর্ঘ সৈকতের প্রস্থ। একই সঙ্গে বিলীন হচ্ছে উপকূলীয় বনাঞ্চল ও বিভিন্ন স্থাপনা। এতে শুধু কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই হুমকির মুখে পড়ছে না, ধীরে ধীরে ঝুঁকিতে পড়ছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনকেন্দ্রটির পর্যটন অবকাঠামোও।
সৈকতের ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ব্যবহার করলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কুয়াকাটার সৈকত ও পর্যটন অবকাঠামো রক্ষায় সাময়িক প্রতিরোধ নয়, সমুদ্রের ঢেউ, জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা প্রয়োজন।
জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে কুয়াকাটাকে পর্যটনকেন্দ্র ঘোষণা করা হয়। তখন সৈকতের দৈর্ঘ্য ছিল ১৮ কিলোমিটার, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ২৯ কিলোমিটার হয়েছে। তবে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সাগরের ঢেউয়ে বালুক্ষয়ে প্রতিবছর সংকুচিত হচ্ছে সৈকতের প্রস্থ।
স্থানীয়দের দাবি, গত ৪০-৫০ বছরে সমুদ্র প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার ভেতরে এগিয়েছে। গত এক দশকে নারিকেলবাগান, জাউবাগান, ডিসি পার্কের অংশসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে। এতে কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাও হুমকিতে পড়েছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাময়িক মেরামতের বদলে টেকসইভাবে সৈকত রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিবেশকর্মী মেজবাহ উদ্দিন মাননুর দাবি, ইতিমধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ বনাঞ্চল বিলীন হয়েছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ্ আলম জানান, সৈকতের ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে ৭৫৯ কোটি টাকার প্রকল্প ২০২৪ সালে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে জিও টিউব দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।










